ফরজ নামাজের পরেই উঠে যাওয়া উচিত নয় 🚫
⭕ "যখন কোন মুসলিম সালাত আদায় করার পর তার সালাতের স্থানে বসে থাকে, তখন ফেরেশতাগণ অনবরত তার জন্য দু'আ করতে থাকেন—
"হে আল্লাহ্! এই ব্যক্তিকে ক্ষমা করুন,এই ব্যক্তিকে রহমত করুন" (এভাবে তারা বলতেই থাকেন) যতক্ষণ না সেই ব্যক্তি অযু নষ্ট করে বা তার স্থান থেকে উঠে যায়।"
[সহিহ ইবনে খুযাইমা: ১/৩৭২, সহিহ আত তারগিব: ১/২৫১; হাদিসটির সনদ সহিহ]
👉 রাসূসুল্লাহ (সাঃ) প্রত্যেক ফরয নামায শেষে একবার "আল্লাহু আকবার" বলতেন।
(মুসলিমঃ৫৯১)
👉 এরপর ৩ বার "আসতাগফিরুল্লাহ্" বলতেন।
|মুসলিম,১২২২|
👉 তারপর পড়তেন,
‘আল্লাহুম্মা আন্তাস সালাম,ওয়ামিনকাস সালাম, তাবারাকতা ইয়া যাল-জালালি অল-ইকরাম"
অর্থঃ হে আল্লাহ! তুমি শান্তিময়, তোমার নিকট থেকেই শান্তি আসে। তুমি বরকতময় হে মহিমান্বিত ও মহানুভব।
(মুসলিম, ১২২১)
👉 প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করুনঃ
আবু উমামাহ (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
“যে ব্যাক্তি প্রতেক ফরয নামাযের পর আয়াতুল কুরসি পড়বে তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ব্যতিত আর কোন বাঁধা থাকবে না।” (নাসায়ী হা/ ৯৪৪৮ তাবারানী ৭৮৩২)
👉 প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তিন তাসবিহ পাঠ করুনঃ
৩৩ বার سُبْحَانَ اللّٰهِ সুবহানাল্লাহ
৩৩ বার الْحَمْدُ لِلّٰهِ আলহামদুলিল্লাহ
৩৩ বার اللّٰهُ أَكْبَرُ আল্লাহু আকবার
আর একশত পূর্ণ করার জন্য বলবে-
لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
উচ্চারণঃ লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাই’ইন ক্বদীর।
অর্থঃ একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো হক্ব ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরীক নেই, রাজত্ব তাঁরই, সকল প্রশংসা তাঁরই এবং তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।
তা পাঠ করলে পাপ সমুহ মাফ হয়ে যাবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মত হয়।” (সহীহ মুসলিম হা/১২৩০)
👉#দোয়া
“আল্লাহুম্মা আঈন্নী ‘আলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা,ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা”
(অর্থ : হে আল্লাহ! আপনার স্মরণে, আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এবং আপনার উত্তম ‘ইবাদাতে আমাকে সাহায্য করুন)।
"একদা রসূলুল্লাহ (সঃ) তার হাত ধরে বললেন, হে মু‘আয! আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি। তিনি বললেন, হে মু‘আয! আমি তোমাকে ওয়াসিয়াত করছি, তুমি প্রত্যেক সলাতের পর এ দু‘আটি কখনো পরিহার করবে না"
[সুনানে আবু দাউদ: ১৫২২]
👉 সাইয়েদুল ইস্তেগফার/সর্বশ্রেষ্ঠ ইস্তেগফার/ক্ষমা প্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺃَﻧْﺖَ ﺭَﺑِّﻲ ﻟَﺎ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ ﺧَﻠَﻘْﺘَﻨِﻲ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﺒْﺪُﻙَ ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻋَﻠَﻰ ﻋَﻬْﺪِﻙَ ﻭَﻭَﻋْﺪِﻙَ ﻣَﺎ ﺍﺳْﺘَﻄَﻌْﺖُ ﺃَﻋُﻮﺫُ ﺑِﻚَ ﻣِﻦْ ﺷَﺮِّ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖُ ﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﻨِﻌْﻤَﺘِﻚَ ﻋَﻠَﻲَّ ﻭَﺃَﺑُﻮﺀُ ﻟَﻚَ ﺑِﺬَﻧْﺒِﻲ ﻓَﺎﻏْﻔِﺮْ ﻟِﻲ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﻟَﺎ ﻳَﻐْﻔِﺮُ ﺍﻟﺬُّﻧُﻮﺏَ ﺇِﻟَّﺎ ﺃَﻧْﺖَ
♦️উচ্চারণঃ
আল্লহুম্মা আংতা রব্বী, লা-ইলাহা ইল্লা আংতা খলাক্কতানী, ওয়া আনা আ’বদুকা ওয়া আনা আ’লা আহদিকা ওয়া ওয়া'দিকা মাসতাত্বো'তু,, আ’উযু বিকা মিং শাররি মা- ছনা'তু, আবূউ লাকা বিনি’মাতিকা আ’লাইয়্যা, ওয়া আবূউ লাকা বিযামবী। ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুয যুনূবা ইল্লা- আংতা।
♦️অনুবাদঃ
হে আল্লাহ তুমিই আমার প্রতিপালক। তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমিই আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সঙ্গে প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে পানাহ চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি তোমার যে নিয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে মাফ করে দাও। কারন তুমি ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করতে পারবে না।
♦️ ফযিলতঃ
পূর্ন বিশ্বাসের সাথে কেও এই দোয়া সকালে পড়ে রাতের আগে মারা গেলে অথবা রাতে পড়ে সকালের আগে মারা গেলে সে জান্নাতে যাবে।
[বুখারী-৬৩০৬]
(বুখারী ৫/২৩২৩,নং ৫৯৪৭)
ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর পড়তে পারেন ১বার করে।
👉 #দোয়া
"আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা ইলমান নাফিআওয়া রিযকান তয়্যিবা,ওয়া আমালান মুতাকব্বিলা"
অর্থ: "হে আল্লাহ্! আমি আপনার কাছে উপকারী জ্ঞান, পবিত্র রিযিক ও এবং কবূল হওয়ার যোগ্য কর্মতৎপরতা প্রার্থনা করি”
মহানবী (সা.) ফজরের সালাত পড়ে সালাম ফিরিয়ে এই দোয়া পড়তেন।
[ইবনে মাজাহ ৯২৫]
👉 #দুআ:
ﺍﻟﻠَّﻬُﻢَّ ﺇِﻧِّﻰ ﺃَﺳْﺄَﻟُﻚَ ﺍﻟْﻌَﺎﻓِﻴَﺔَ
#উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল 'আফিয়্যাহ।
অর্থঃ হে আল্লাহ আমি আপনার কাছে আফিয়্যাহ চাই,অর্থাৎ দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যান চাই।
(রিয়াদ্বুস স্বলেহীন,আত-তিরমিযী, খন্ড: ০৬, অধ্যায়:৪৫,হাদিস নং: ৩৫১৪)
👉 #দোয়া
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি বলবে,
"رَضيتُ بالله رَبّاً، وبا لإسلامِ ديناً، وبمحمَدِ رَسولاً "
"রদ্বিতু বিল্লাহি রব্বান, ওয়াবিল ইসলামি দ্বীনান, ওয়া বিমুহাম্মাদিন রাসূলান"
অর্থাৎ,আমি আল্লাহকে রব্ব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মদ (সাঃ)-কে রসূল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।
[আবু দাউদ: ১৫২৯]
#দোয়া
"আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা ওয়াততুক্বা,ওয়াল আফা-ফা ওয়ালগিনা"
অর্থ:হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে সৎপথ, সংযমশীলতা, চারিত্রিক পবিত্রতা ও অভাবশূন্যতা প্রার্থনা করছি।
[তিরমিজি ৩৪৮৯/মুসলিম ৭০৭৯]
👉 অধিকহারে দুরুদ পড়ুনঃ
দরুদ শরীফ ১০ বার,ফজর ও মাগরিবের পর। কেয়ামতের দিন রাসূল (সা:) এর শাফা'আত লাভ করবে।
আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত, রাসূলূল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, من نسي الصلاة عليّ خطئ طريق الجنة “যে ব্যক্তি আমার উপর দুরুদ ভুলে গেল, সে জান্নাত ভুলে গেল। (ইবনু মাজাহ হা/৯০৮)
👉 সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও সূরা নাস ফজর ও মাগরিবের পর ৩বার করে।
রাসূল (সা.) বলেন, সকাল-সন্ধ্যায় এগুলো পাঠ করলে তোমার আর কিছুরই দরকার হবে না।
👉 ফজর ও মাগরিবের পর ৭ বার পড়বে -
- ﺃﻟﻠﻬﻢ ﺃﺟﺮﻧﻲ ﻣﻦ ﺍﻟﻨﺎﺭ
উচ্চারনঃ আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।
অর্থঃ “হে আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দাও”
👉 ফজর ও মাগরিব নামাজের পর সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করুন।
যে ব্যক্তি সকালে তিনবার আ‘ঊযুবিল্লাহিস সামী‘ইল ‘আলীমি মিনাশ শাইত্বানির রজীম, পাঠ করার পর সূরা হাশরের শেষ তিন আয়াত পাঠ করবে তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত ৭০ হাজার ফেরেশতা গুনাহ মাফের/রহমতের দু‘আ করবে। আবার সন্ধ্যায় পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত ৭০ হাজার ফেরেশতা গুনাহ মাফের দু‘আ করবে এবং সে ঐ দিন মারা গেলে শাহাদাতের মর্যাদা লাভ করবে।
(তিরমিজিঃ২৯২২)
আলহামদুলিল্লাহ আমি সবমসময় এ আমলগুলো করার চেষ্টা করি,আপনিও চেষ্টা করেন অভ্যাস হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
"আল্লাহ আমাদের সবাইকে উপরোক্ত আমলগুলো করার তাওফিক দান করুক,আমিন!
আল্লাহ বলেছেন,
আমিই আল্লাহ আমি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই! অতএব আমার এবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর!
____ (সূরা ত্বোয়া-হাঃ-১৪)
তিনি মুমিনদের অন্তরে প্রশান্তি নাযিল করেন, যাতে তাদের ঈমানের সাথে আরও ঈমান বেড়ে যায়। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের বাহিনীসমূহ আল্লাহরই এবং আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।🖤✨
সুরাঃ ফাতাহ, আয়াত নংঃ ৪ 🌻
|| আপনার কথা খুব মনে পড়ছে নবিজি (সা.) ||
.
যদি নবিজিকে জীবিত পেতাম, এক দৌড়ে গিয়ে জিজ্ঞেস করতাম, “রাসূলাল্লাহ, ভীষণ মানসিক চাপে আছি। একটু বলবেন কী করব?”
.
হয়তো আমাকে কোনো দু‘আ শিখিয়ে দিতেন। আমি খুশি মনে বাড়ি ফিরে নিয়মিত দু‘আ পড়ে সুস্থ হয়ে যেতাম।
.
যদি নবিজিকে জীবিত পেতাম, এক ছুটে গিয়ে অনুযোগ করতাম, “রাসূলাল্লাহ, বাচ্চার দুধের টাকা নেই। খুব কষ্টে আছি।”
.
হয়তো তিনি বায়তুল-মাল থেকে আমার টাকার ব্যবস্থা করে দিতেন।
.
যদি নবিজিকে জীবিত পেতাম, তাঁকে একটু আড়ালে পেলে বলতাম, “আল্লাহর রাসূল, ফজরে যে মাঝে মাঝে সময়মতো উঠতে পারি না। ভীষণ বিব্রত। যদি কোনো উপায় বলে দিতেন!”
.
কী জানি কী উপায় বলে দিতেন তিনি!
.
যদি নবিজিকে জীবিত পেতাম, কাজ শেষ করেই ছুট লাগাতাম, খোঁজ করতাম কোথায় আছেন তিনি। তাঁর পাশে পাশে ঘুরতাম। তাঁর প্রতিটা কথা মাথায় গেঁথে নিতাম। কিংবা হয়তো এত মন্ত্রমুগ্ধ থাকতাম কী বলছেন তিনি টেরই পেতাম না। হয়তো তাঁর যাওয়ার পথে তাকিয়ে থাকতাম। এরপর তিনি যেখানে যেখানে পা ফেলেছেন, আমিও সেখানে সেখানে পা ফেলে এগিয়ে যেতাম।
.
যদি তাঁকে জীবিত পেতাম, হয়তো মওকা বুঝে তাঁর বুকের সাথে বুক লাগিয়ে কিছুটা বারাকা নিজের শরীরে নিয়ে নিতাম। তাঁর গোসলের পানির কিছুটা ছিটিয়ে দূর করতাম চোখমুখের ক্লান্তি।
.
আজ জীবনে প্রথমবারের মতো এই আধুনিক সময়ে জন্মে খুব আফসোস হচ্ছে। আজ জীবনে প্রথমবার নবিজির কথা মনে বারবার নাড়া দিচ্ছে। খুব করে মন চাচ্ছে যদি তাঁর সাহাবি হয়ে জন্মাতে পারতাম। যদি তাঁর মাজলিসগুলোতে থাকতে পারতাম। যদি তাঁর মাসজিদ বানানোতে হাত লাগাতে পারতাম। যদি হতাম বাদ্রের ৩১৪তম জন। যদি দেখতে পেতাম কীভাবে একেকেটা আয়াত অবতীর্ণ হচ্ছে তাঁর প্রতি। যদি দেখতাম কীভাবে তিনি ক্লান্তিহীনভাবে করে যাচ্ছেন একের পর এক ‘ইবাদাত। কীভাবে সামাল দিচ্ছেন ঘরে, বাইরে। খুব খুব অস্বস্তিকর আর অরাজক এক সময় পার করছি সামষ্টিক জীবনে।
.
নিজেকে আজ বড় অভিভাবকহীন মনে হয়। মনে হয় আমার এ জীবনটাকে দেখিয়ে চালিয়ে নেওয়ার মতো কেউ নেই। কেউ নেই যিনি নবিজির মতো আমাকে বুঝতে পারতেন। এক একজন সাহাবির মন-মেজাজ আর পরিস্থিতি বুঝে তিনি যেভাবে সবাইকে আলাদা আলাদা নাসীহা দিতেন আজ তেমন আর কেউ নেই। তেমন কাউকে চিনি না আমি। নিজের বাবা-মা’র চেয়েও তিনি আমাকে বেশি ভালোবাসেন। অথচ তিনি আমাকে দেখেননি। আমিও তাঁকে দেখিনি। কিন্তু আমি জানি আমার জন্য কতটা উদ্বিগ্ন ছিলেন তিনি। কত রাত
Alhumdulillah
উত্তরমুছুন